৭ টি সহজ উপায়ে হ্যাকিং থেকে স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখুন। (1)

৭ টি সহজ উপায়ে হ্যাকিং থেকে স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখুন।

Last updated:

আপনাকে স্বাগতম, আপনি যেহেতু এই লেখাটি পরতে আগ্রহী তার মানে হচ্ছে আপনি একজন সচতেন মানুষ। আপনি এই সম্পূর্ণ লেখাটি পরে জানতে পারবেন কিভাবে আপনার মোবাইল কে ও আপনার মোবাইল এর সমস্থ তথ্য কে নিরাপত্তা দিতে পারেবেন।

এই ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন একটি অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্র। ডিজিটাল বা ইন্টারনেট এর যুগ যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিক তেমনি এটা বিপদজনকও বটে। এখন আমরা স্মার্টফোন দিয়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং আরও অন্যান্য সেবা ব্যবহার করে থাকি, তাই একটু সতর্ক না থাকলে আপনার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চলে যেতে পারে হ্যাকারের হাতে।

সংক্ষেপে জেনে নেই হ্যাকিং আসলে কি?

হ্যাকিং মানে হচ্ছে আপনার অজান্তেই আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার ডিভাইস থেকে আপনার ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, যোগাযোগের নম্বর সমুহ, এস এম এস বা মেসেজ, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি হ্যাকারের কাছে চলে যাই। যার ফলে তারা আপনার মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিং এর তথ্য ব্যবহার করে আপনার টাকা হ্যাকেরের পকেটে চলে যাই। কিংবা আপনার কোন গোপন ছবি নিয়ে আপনার ব্লাকমেইল এর মাধ্যমে আপনার কাছ থেকে অর্থ দাবি করতে পারে।

তবে নিচের উল্লেখিত নিয়ম গুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার স্মার্টফোনটি সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

১. পিন/পাসওয়ার্ড/ফিঙ্গার প্রিন্ট/ফেস লক ব্যবহার করুন।

প্রতিটি স্মার্টফোনে লক করার ফিচার আছে, তাই আপনার মোবাইলটিতে লক ব্যবহার করবেন। কিন্তু মনে রাখবেন যদি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন, যেমন আমরা অনেক সময় ১২৩৪৫৬ অথবা আমার নাম কিংবা আমাদের মোবাইল নং ব্যবহার করে থাকি যেটা মোটেও ঠিক না। যদি আপনার মোবাইল এ ফিঙ্গার প্রিন্ট / ফেস লক এর অপশন থাকে তাহলে সেইটা ব্যবহার করবেন কারন এইটা সব থেকে বেশি নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।

২. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলুন।

আপনার মোবাইলে বিনা কারনে কিছু অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ অ্যাক্টিভ করা থাকে যা আমরা মুছে ফেলি না বা অইগুলা খেয়াল করি না, কিন্তু সেটা আপনার জন্য দুশ্চিন্তার কারন হতে পারে, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ যেমন আপনার মোবাইল এর গতি রোধ করে, আপনার মোবাইল ডাটা ব্যয় করে তেমনি ভাবে আপনার তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

৩. বিশ্বস্ত সুত্র/লিঙ্ক থেকে অ্যাপ ইনস্টল করবেন।

মনে রাখবেন আপনার মোবাইল এর নিরাপত্তা শুধু আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে, তাই কখনোও অপরিচিত ওয়েবসাইট কিংবা লিঙ্ক থেকে কোন অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। আপনি হয়তো দেখে থাকবেন অনেক সময় আমাদের মেসেজ এ বা ফেসবুক মেসেঞ্জার এ এই ধরনের অ্যাপ ইনস্টল করার জন্য লিঙ্ক আসে ওই ধরনের লিঙ্ক এ কখনো ক্লিক করবেন না। তাই চেষ্টা করবেন গুগল প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করতে।

৪. ফ্রী ওয়াই-ফাই ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

ফ্রী ওয়াই-ফাই বাবহারের কারনে আপনার অজান্তেই আপনার বাক্তিগত তথ্য হ্যাকারের হাতে চলে যেতে পারে। তাই ফ্রী ওয়াই-ফাই বাবহার থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন।

৫. অ্যান্ড্রয়েড (অপারেটিং সিস্টেম) এবং অন্যান্য ইনস্টল অ্যাপ আপডেট রাখুন।

অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপ গুলা তাদের কোন নিরাপত্তা ত্রুটি কিংবা নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত আপডেট করে থাকে, তাই সব সময় আপনার ডিভাইস টি আপডেট রাখুন। মাঝে মাঝে নিরাপত্তা পরিক্ষা করুন।

৬. অ্যাপ ইনস্টল করার সময় অবশ্যয় অ্যাপ এর চাওয়া অনুমতি দেখে নিন।

নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার সময় অনুমতি গুলা দেখে নিবেন, দেখেন অ্যাপ গুলা আপনার কল, ছবি, আপনার অবস্থান সম্পর্কে অনুমতি চেয়ে থাকে অনেক সময় আমরা সেগুলা ভালো ভাবে দেখি যার ফলে আপনার তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যেতে পারে।

৭. অ্যাপ লক অথবা টু-স্টেপ ভেরিফিকেসন / অথেনটিকেশন ব্যবহার করুন।

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ গুলো তে অতিরিক্ত স্তর নিরাপত্তা ব্যবহার করুন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারি প্রত্যেকেই আমরা জিমেইল ব্যবহার করে থাকে, তাই আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট তি অবশ্যয় অতিরিক্ত স্তর নিরাপত্তা ফিচারটি চালু রাখুন। এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ যেমন বিকাশ, রকেট, নগদ ও অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাপ গুলোতে অ্যাপ লক ব্যবহার করুন।

আপনার পছন্দ আমাদেরকে জানান